ডেঙ্গু জ্বরকে পাবলিক হেলথ প্রবলেম উল্লেখ করে এ রোগ থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রামেবির পক্ষ থেকে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিউনিটি সচেতনতা এবং জনস্বাস্থ্যের পদক্ষেপের প্রতি একটি বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ (হৃদরোগ) ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও রামেবির সিন্ডিকেট সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। বক্তব্য দেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আজিজুল হক আজাদ, এনআইসিভিডি, ঢাকার কার্ডিওলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. এ কে এম মোনোয়ারুল ইসলাম ও ড্যাব রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন প্রমুখ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, গতবারের চেয়ে এবার ডেঙ্গু আরও বেশি হবে। জ্বর আসার দুদিন আগে শুরু হয়, ভাল হওয়ার দুদিন পরও থাকে। প্রতিবছর ধরণ চেঞ্জ হচ্ছে। সেজন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তারা।
প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সেমিনার করতে হবে। জ্বর হলে পরীক্ষা করতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। সবার কাছে ডেঙ্গু সম্পর্কে ম্যাসেজ পৌছতে হবে। আসরের নামাজের পর বাসার দরজা জানালা লাগাতে হবে।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধকে ‘টিমওয়ার্ক’ মনে করের সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও রামেবির সিন্ডিকেট সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় একদিনে ৩টা করে প্রোগ্রাম নেবেন প্রতিটি ওয়ার্ডে। রাজশাহীর অবস্থা ভাল আছে। রামেবি আমাদের বিশাল প্রকল্প। গত মিটিংয়ের আগের কেবিনেট মিটিংয়েও অর্থ ছাড় করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৩০০ বেডের আছে, এটা আড়াই হাজার বেডে নিয়ে যাচ্ছি।
সবশেষ সভাপতির বক্তব্যে রামেবি উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. জাওয়াদুল হক বলেন, ডেঙ্গু খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাবলিক হেলথ প্রবলেম এটা। আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে আজকের সেমিনার আয়োজন করা। সমসাময়িক প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম তরান্বিত করা আমাদের দায়বদ্ধতা। আমরা এগুলো করবো। তবে একমাত্র উপায় প্রিভেনশন করা। সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে। ডেঙ্গুমুক্ত করার কাজে এগিয়ে যাব।
আমানুল্লাহ আমান