• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

‘বটি’ হাতে শিবিরকর্মীর ধাওয়া, ফিরে আসছে রগ কাটার সংস্কৃতি?

আমানুল্লাহ আমান / ২২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরা এবং জখম করার উদ্দেশ্যে বটি নিয়ে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আবারও রগ কাটার সংস্কৃতি ফিরে আসছে কি না- এমন প্রশ্ন উঠেছে ছাত্রনেতাদের মাঝে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তৌাহিদুল ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন। আর ভুক্তভোগী আরাফাত এগ্রোনোমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাবির শহীদ শামসুজ্জোহা হলের ১১৪ নম্বর কক্ষে থাকেন তৌহিদুল। আর ১১৫ নম্বর কক্ষে থাকেন আরাফাত। আগের দিন রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জেরে শুক্রবার সকালে আরাফাতের কক্ষে গিয়ে তার গলা চেপে ধরেন তৌহিদুল। পরে কক্ষের বাইরে আবারও তর্কাতর্কি হলে পাশে থাকা একটি ‘বটি’ নিয়ে আরাফাতের দিকে তেড়ে যান তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরাফাত জানান, আগের রাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় তৌহিদুল এসে অতর্কিতভাবে তার গলা চেপে ধরেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট ধস্তাধস্তির পর হলের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাদের আলাদা করেন। আরাফাত আরও বলেন, ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তৌহিদুল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন এবং কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি সরে যাওয়ায় আঘাত পাননি।

আক্রমণের কারণ সম্পর্কে আরাফাত বলেন, তাদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপ রয়েছে। সেখানে তৌহিদুলের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। তৌহিদুল খারাপ ব্যবহার করলে তিনিও পাল্টা জবাব দেন। এ ঘটনার জেরেই তাকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে ধারণা তার।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৌহিদুল বলেন, তারা একই সঙ্গে থাকেন। এর আগেও তাদের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। পরে নিজেরাই সমঝোতা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি মেসেঞ্জার গ্রুপের একটি বিষয় নিয়ে আবারও ঝগড়া হয়। তবে গলা চেপে ধরার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি, শুধু সামান্য হাতাহাতি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বটি নিয়ে ধাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদুল বলেন, ‘এরপর ও আমাকে কটু কথা বলেছে, আমিও বলেছিলাম একেবারে বটি দিয়ে দিব। বটিটা সামনে মাটিতে ছিল। প্রায় দুই সেকেন্ডের মতো আমার হাতে ছিল। এক সিনিয়র বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমি সেটা রেখে দিই।’

এদিকে, তৌহিদুল ইসলামের এমন কাণ্ডের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাবি ছাত্রদলের সহ সভাপতি শেখ নুর উদ্দিন আবির তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। দুটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং রাকসুর ভিপি ও শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সাথে তৌহিদকে দেখা যাচ্ছে। তৌহিদের কাঁধে হাত দিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সাদিক কায়েম।
ছবির ক্যাপশনে রাবি ছাত্রদল সহ সভাপতি আবির লিখেছেন, ‘মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে জুনিয়রকে গলা চেপে ধরা ও বটি নিয়ে ধাওয়া দেওয়ায় অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম শিবির কর্মী না হয়ে ছাত্রদল কর্মী হলে আজকে রাবিতে শিবির আবার একটা বিক্ষোভ মিছিল করতো। যেহেতু সে শিবির কর্মী তাই হলের মধ্যে বটি নিয়ে ধাওয়া দেওয়া জায়েজ।’
রাবি শাখার বিজয়-২৪ হল ছাত্রদলের সভাপতি গাজি ফেরদৌস হাসান আমান তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির জেরে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরা এবং বটি নিয়ে ধাওয়া দিয়েছে দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম। ছবিতে সাদিক কায়েমের ডান পাশে চিহ্নিত ছেলেটিই তৌহিদুল। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছবিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করি। ছবিতে সাদিক কায়েমের পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সহিংস জাহিদকেও দেখা যাচ্ছে। শিবির অতীতে ক্ষুর দিয়ে রগ কাটত, আর এখন ক্ষুরের পরিবর্তে বটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। শিবিরের এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধ করা না গেলে, তারা অতীতের মতো আবারও ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রাণহানির রাজনীতি শুরু করবে।’
এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আল-আমিন সরকার বলেন, ‘এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category