• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

পানির হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া লাগে, যাব: প্রধানমন্ত্রী

আমানুল্লাহ আমান / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা ও পদ্মায় ব্যারেজ করবো যাতে পানির সমস্যা দূর করতে পানির। আমরা পানির হিস্যা নিয়ে আসব। যতদূর যাওয়া লাগে, যাব। ১৪ জেলার মানুষের উপকার হবে পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে। তবে বিএনপির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। এ দেশ আমাদের, এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না। কুচক্রি মহল সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। আসুন উন্নয়নের গতিকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্থ করতে না পারে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। করব কাজ গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু,  স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষক কৃষি বাচলে দেশ বেচে থাকবে। সে কারণে ৮ মাস আগে নির্বাচনে জনসভা করেছিলাম। সব জনসভায় কয়েকটি কথা বলেছিলাম। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সরকার গঠন করলে বিএনপি কী কী করবে। একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাড়াবে বিএনপি। ৭ দিনের মাথায় প্রতিশ্রুতি রেখেছি। ১৩ লক্ষ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছিলাম। তাই আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, বড় কৃষক। পৌঁছনোর চেষ্টা করবো। ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব। চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার বিষ কীটনাশক পৌঁছে দেওয়ার। যাতে কষ্ট লাঘব হয়। বীমা করতে পারবে, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। জানতে পারবেন, আগামীকাল এখানে বৃষ্টি হবে কি হবে না। ১০টি সুবিধা থাকবে কৃষক কার্ডে।
তারেক রহমান বলেন, কৃষি বাঁচলে কৃষক বাঁচলে দেশ বাচবে। কৃষকের পানির কষ্ট হয়। উত্তরাঞ্চল শস্যভাণ্ডার। এখানে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। শহীদ জিয়ার সময় বরেন্দ্র প্রকল্প নেওয়া হয়। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনে জয় পেলে খান ও নদী খনন শুরু করব। ২০ হাজার কিলোমিটার খান খনন করবো। ৮ হাজার কিলোমিটার সম্পন্ন করেছি। পানি ও সেচের সুবিধা পাবে মানুষ। পানি রিচার্জ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে হাসপাতালে বেড সংখ্যা বাড়াতে বলেছে আমার নেতারা। কত আছে ১৩০০? ২৫০০ করতে চাচ্ছেন? আসেন এবার। যেহেতু বিএনপিকে নির্বাচিত করেছেন, বিএনপি জনগণ এর সরকার। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৫ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ৫০ বেডের ৩০ বেড শুরু করেছিলেন শহীদ জিয়া, ৯১ সালে খালেদা জিয়া আরও ২০ বেড বাড়িয়ে ৫০ বেড করেন। আমরা এবার ৫০ থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব। গ্রামের মা বোনদের কষ্ট করে এতদূর আসতে হবে না। আমরা স্বাস্থ্য সেবা মানুষের কাছে দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। কিডনি রোগীসহ সবার আলাদা বেড রাখবো। জুন মাসে বাজেট উপস্থাপন করলাম, ডায়ালাইসিসের ওষুধের দাম কমানো হয়েছে। হার্টের জিনিসপত্রের ট্যাক্স কমানো হয়েছে। জনগণের জন্য বিএনপি কাজ করেছে। এতো গেল চিকিৎসার কথা। ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬টির মতো বন্ধ কারখানা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে কেউ বেকার না থাকে।
তারেক রহমান বলেন, একটি মহল, বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করছে। বিএনপি দেশের নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, বন্ধ মিল চালু করতে চেষ্টা করছে, কর্মসংস্থান দূর করতে। বেকারত্বের অভিশাপ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। আমরা উৎসাহ দিচ্ছি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের। যাতে বেকারদের কর্মসংস্থান। কিন্তু আমরা দেখছি, কতকগুলো দল বিশৃঙ্খলা করছে। সরকারের কাজগুলোকে স্লো করে দিতে চাইছে। যদি এসব চালু না হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাহলে আমার প্রশ্ন, যারা এমন কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায়, তারা কী জনগণের বন্ধু হলো? তারা জনগণের বন্ধু নয়।
তারেক রহমান আরও বলেন, খাল কাটা জনগণের কর্মসূচি। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছি আমরা। এটার উপকারে তাদের সন্তুষ্ট নয়। এসব না হে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খালেদা জিয়া মা বোনদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। আমরা মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ভাল রেজাল্ট করলে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব। শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না, ইন্ডিপেনডেন্ট হতে হবে। আমরা বলেছিলাম, ফ্যামিলি কার্ড দেব। অর্থনৈতিক সহযোগিতা পৌঁছে দেব। যাতে সংসারের কাজে লাগে। পুঁজি তৈরি করে এক্সট্রা ইনকাম আসবে। সমগ্র বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে। এ হলো আমাদের পরিকল্পনা। এগুলো বাস্তবায়ন না হলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি দল এসব চায় না। জনগণ আর তাদের টিকিট জনগণ খায় না। তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। বিএনপি ৭১ কে ধারণ করে, ২৪ কে ধারণ করে। করে বলেই শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে। তারা মুখে বলে ২৪ ধারণ করে, কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ২৪ আন্দোলনকে ধোকা দিয়েছে। মুখে একটা বলছে, কাজে আরেকটা করছে। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান।
আমরা একটি কথা বলি, করবো কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মিথ্যা কথা বলে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। সময় এসেছে সচেতন হবার। আজ থেকে সচেতন হতে হবে। যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে না পারে।
এ সময় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মাঝে ১২ কোটি ২৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রনোদনা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলে বাটন প্রেস করে উদ্বোধন করেন তিনি। টাকা মোবাইলে চলে যাওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলেন তিনি। জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী আলহামদুলিল্লাহ বলেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category