রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জননেতা মাদার বখশ্ এর নাতী, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কারাগার থেকে নির্বাচিত এমএনএ, রাজশাহী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, রাজশাহী জেলা গভর্নর অভিভাবকতুল্য নেতৃত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতা আতাউর রহমান ও ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের সন্তান রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের প্রয়াত সভাপতি মানবতাবাদী সাংবাদিক নেতা সংগঠক জনাব সাইদুর রহমান স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজশাহী সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় রাজশাহী প্রেসক্লাব চত্বরে এই নাগরিক শোকসভার আয়োজন করে অরাজনৈতিক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ।
জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ সভাপতি, রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলার সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক সামাজিক সংগঠক সালাউদ্দিন মিন্টুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ উপদেষ্টা, রাজশাহী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সুজন রাজশাহী সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের উপদেষ্টা রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পেয়ারা, রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ জুলফিকার, রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সবুর, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আবু সালে মো ফাত্তাহ, স্মৃতি পরিষদ সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট শিরাজী শওকত সালেহীন এলেন ও ওয়ালিউর রহমান বাবু, জননেতা আতাউর রহমান স্ট্রাট সদস্য সচিব মাসুদ রানা সরকার।
আলোচনায় অংশ নেন- সমাজ উন্নয়ন কর্মী স্মৃতি পারিষদ সদস্য কাজী রকিব উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক সুব্রত দাস, স্মৃতি পরিষদ সহ-সভপতি ডা. রোকনুজ্জামান রিপন, রাজশাহী প্রেসক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে ইসলাম মিলন, স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, কোষাধ্যক্ষ আল-আমিন হোসেন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, স্মৃতি পরিষদ সদস্য মাজেদুর রহমান, টাইগার হোসেন, ইউসুফ আলী, রাজিব আলী রাতুল, মেহেদী হাসান তুলিপ, নাজিম উদ্দিন, মানবাধিকার কর্মী আইয়ুব আলী তালুকদার, আরিফ ইসলাম, ত্রিসুল কুমার, নজরুল ইসলাম খসরু, অসিত কুমার লন্ডন প্রমুখ।
নাগরিক শোকসভা পরিচালনা করেন- রাজশাহী প্রেসক্লাবের প্রয়াত সভাপতি সাইদুর রহমানের ভাগ্নে স্মৃতি পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরফিন রহমান কনক।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী অঞ্চলের সাংবাদিকতা ও সামাজিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে আশির দশকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন। শেষদিন পর্যন্ত ভোরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছিলেন। তিনি বিয়ে করেন নি। সে অর্থে কোন বৈষয়িক চিন্তা ছিল না। সারাজীবন লেখালেখি করেছেন মানুষের জন্য। সারজীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন। এই কারণে যাঁরা ক্ষমতায় গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতা চর্চা করতেন তাঁদের বিরাগভাজন হতে হয়েছে। কিন্তু এই গুণের কারণে জনসাধারণের আস্থার মানুষ হতে পেরেছিলেন। টাকাপয়সা যা উপার্জন করেছেন, সব রেখে গেলেন জনকল্যাণের জন্য। যা স্ট্রাটের মাধ্যেমে জনকল্যাণে ব্যয় হবে। সাইদুর রহমানের ক্ষুরধার মেধাবী ছিলেন। রাজশাহী শহরের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের ফোননম্বর মুখস্থ বলতে পারতেন। তাঁর কাছে হাতেখড়ি নিয়ে অনেকে দেশের বড় সাংবাদিক হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য অংশ পেশাজীবনে সততার স্বাক্ষর রেখেছেন।